আমবুড়ো - পর্ব - ১২ শম্পা সাহা (প্রাপ্ত মনস্কদের জন‍্য)

 



কিন্তু বাড়িতে ওর সকাল বেলা ছাড়া থাকা হয়না। আর ফিরতে ফিরতে রাত সেই রাত এগারোটা।তার মধ্যেই শেফালী মামীর অতিরিক্ত সচেতনতার কারণেই খাওয়া-দাওয়া ঐ আগের মতই আছে। মাঝে মধ্যে মাছও হয় যদি বাড়ির কাছে কেউ বেচতে আসে ।কিন্তু বুড়োর বরাদ্দ তো ওই টিফিন বক্সে সকালে যতটুকু হয়, ডাল ভাত আর আলু সেদ্ধ বা আলু ভাজা। রাতে ফিরেও প্রায় দিনই তাই।

তা বলে ওকে কখনো কেউ, হোটেলে দামি কিছু কিনে খেতে দেখে নি। ভয়! যদি মায়ের কানে খবর যায় , তাহলেই তো আবার ,জুতো নিয়ে তেড়ে
– মর! মর! ওলাউটো! মর!
এরমধ্যে হারু বিয়ে করে আলাদা। শান্তি মামাও আর কাজে আসতে পারে না ।ফলে মা বাবার দায় সেই আবলদা আমবুড়োর ঘাড়ে।
ছেলের প্রায় তিরিশ পার। বন্ধুরা সবাই বিয়ে করে ফেলেছে। দেখে আমবুড়োর ও বিয়ে করার শখ ! শেফালী মামী আর শান্তি মামা, দশ হাজার টাকা পণ , হাতে কানে গলায় আর ছেলের আংটি নিয়ে আমবুড়োর বিয়ে দিলো ওখানকারই এক মেয়ের সঙ্গে। যার বয়স মাত্র ঊণিশ!
বিয়ে , কালরাত্রি,বৌভাত তো চুকলো ভালোয় ভালোয়। কিন্তু সমস্যা বাধলো ফুলশয্যার দিন।না,না ,আমাদের আমবুড়ো মানে সুজিত মোটেও নেশা টেশা করেনি বা অন্যকিছু ।
রাত প্রায় সাড়ে বারোটা। যে কজন লোক নেমন্তন্ন ছিল সবাই খেয়ে দেয়ে ফিরে গেছে। দিদিরা জামাই ছেলেমেয়ে নিয়ে শুয়ে পড়েছে, আমবুড়ো ঢুকেছে তার ফুল সাজানো ঘরে ।কিন্তু ঘরে ঢুকেই সরাসরি নতুন বউকে বলে
-শোনো তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ো। অনেক রাত্রি হয়েছে। আমি কাল কাজে যাব সকাল আটটার মধ্যে ।
বলেই বিছানায় উঠে ঘুম ! নতুন বউ তো অবাক। ওঃ!তার নামটা তো এখনও বলাই হয়নি।ও চম্পা। দুই বোন আর এক দাদার ছোট জন। বাবা রাজমিস্ত্রি,দাদারাও তাই। তবে ও ছোট বলে আদুরে আর বেশ চটপটেও ।বিয়ে বলে খুশিই ছিল। কারণ বিয়ের আগে ওর আমবুড়োর সঙ্গে ফোনে যেটুকু কথা হয়েছে তাতে বেশ বুঝে গেছে যে, ওকে আঙ্গুলের ইশারায় নাচানো যাবে সহজেই।
কিছু কিছু বাড়িতে যেমন ছেলের বউকে ইশারায় নাচানোর জন্য ছেলের মায়েরা তৈরি থাকে, তেমনি কিছু কিছু মাও থাকে যারা মেয়েদেরকে একেবারে তৈরি করে পাঠান ।যাতে মেয়ে গিয়েই পুরো সংসারটা কে নিজের আঁচলে বেঁধে নিতে পারে।
বুড়োকে চেনাটা চম্পার সহজ ছিল।কারণ প্রথম দিন থেকেই আমবুড়োর চম্পাকে সব রিপোর্ট করা হয়ে গেছে ।কত টাকা মাইনে, কত টাকা খরচ, কত টাকা জমিয়েছে, এইসব,সব। কিন্তু মুশকিল হল, স্বামীকে কন্ট্রোল করা সহজ, এটা খুব ভালো কথা কিন্তু প্রতিটা মেয়ে যে পরিবেশ থেকেই উঠে আসুক, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, লালন-পালন যেমনই হোক, সে দেখতে সুন্দরী হোক বা সাধারণ বা খারাপ, প্রত্যেকেরই মনে কিন্তু বিয়ে, বিশেষ করে ফুলশয্যা নিয়ে একটা স্বপ্নময় কল্পনা থাকে। স্বামী কিন্তু আজও প্রতিটা মেয়ের কাছে স্বপ্নপুরুষ।তা সে যত অকিঞ্চিৎকরই হোক না কেন।
চম্পা আমবুড়োর এহেন কান্ড-কারখানা দেখে অবাক! ওর বন্ধুদের কাছে শুনেছে, বৌভাতের রাতে কত কি হয় !তাদের স্বামীরা তাদের কত ভাবে ভালবাসে, কতভাবে আদরে আদরে ভরিয়ে দেয়! তাদের মুখ দেখে গহনাগাঁটি দেয় ।তাদের নারীত্বে উন্নীত হতে হয়,এ এক অন্য মর্যাদা।
কিন্তু চম্পা ঊণিশ বছরের টগবগে সদ্য যুবতী চম্পা কেন এই অপমান মেনে নেবে ?রাগে-দুঃখে ওর মনে হলো সব ফুল মালা ছিঁড়ে কুটিকুটি করে ফেলে। যেমনভাবে ওর স্বপ্নগুলো আমবুড়োর নাক ডাকার শব্দে ফালা ফালা হয়ে যাচ্ছে।
প্রথমে একটু ইতস্তত করে চম্পা। নতুন বরকে একটু ঠেলা দেয়। কিন্তু ঘুমের ঘোড়ে আমবুড়ো তা বুঝতেই পারেনা। এরপর চম্পা জোরে জোরে ঝাঁকাতে থাকে
– ওঠো, ওঠো
আমবুড়ো চোখ খুলে নতুন বউয়ের কান্ড দেখে অবাক
– তুমি ঘুমাচ্ছ কেন ?
চম্পা বেশ একটু লাস্য দেখিয়ে বলে।
আমবুড়ো হাই তোলে,
– খুব ঘুম পেয়েছে
বলে আবার ঘুমোবার চেষ্টা করতেই চম্পা ওর বুকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে! ওর জন্য কত ছেলেরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিটি মেরেছে! জগু তো ওর একটা চুমুতেই কাৎ আর সুজিত! ওর বর হয়ে ওকে এইভাবে এড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়বে! মেনে নিতে পারে না ও! চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিতে থাকে আমবুড়োকে!
ও নতুন বউয়ের লজ্জা ছেড়ে প্রথম রাত থেকেই স্বামীর যাবতীয় দখল নিতে একেবারে উঠে পড়ে লেগে যায় !এ বাড়ি আসার আগে মা, বৌদি বারবার ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছে
-প্রথম দিনই জামাইকে একেবারে বশ করে ফেলবি। মা টা কিন্তু খুব একটা সুবিধার না!
লজ্জা পাবে কেন ?ও তো ওর মা বৌদির কথা শুনে চলছে মাত্র।স্বামীর কাছে আবার লজ্জা কি? নতুন তো কি হয়েছে? এ তো এরপরের রোজকার ঘটনা। সব পুরুষ মানুষকে আঁচলে বাঁধবার এই হল মোক্ষম বন্ধন !
কিন্তু বেচারি চম্পা তো আর জানতো না ওর স্বামীর অতীত ইতিহাস !যে সারাজীবন পুরুষ সঙ্গীদের কাছে একটা মেয়ের ভূমিকা পালন করেছে! তৃপ্ত করেছে, হয়েছেও‌। তার তো মেয়ের ভূমিকা সব জানা। কিন্তু পুরুষের ভূমিকা ?সেতো ওই ভূমিকায় কোনদিন নামেইনি ।আর তাছাড়া ছেলেদের সঙ্গ ওকে যেভাবে আনন্দ দিয়েছে চম্পার ছোঁয়া কিন্তু ওর মোটেই সেভাবে ভালো লাগছে না! ও বিরক্ত হয়
-তুমি কি অসভ্য বলতো ?এসব কি?
চম্পা স্তম্ভিত! তবু হাল ছাড়ে না! একি রে বাবা? একি? ভেবে চম্পা একেবারে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আদর করতে শুরু করে ওর স্বামীকে।ওর যাবতীয় যৌবন দিয়ে স্বামীকে জাগাতে চেষ্টা করে! চেষ্টা করে,যাতে আমবুড়ো ওর স্বামীর ভূমিকা নিতে পারে। কিন্তু ও জানে না যে আমবুড়ো জাগবে কিভাবে? ও তো জাগতে শেখেনি কোনদিন,ও তো জাগাতে শিখেছে !তাও পুরুষদের!
ক্রমশ…

Post a Comment

0 Comments